ক্যান্সার বিরোধী মানসিকতা

গবেষনায় দেখা গেছে যে, স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত অধিকাংশ মহিলাকে অন্যেরা বুঝিয়ে থাকেন বা তারা নিজেরা বিশ্বাস করে্ন যে, তাদের এই রোগ আক্রান্ত হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে রয়েছে তার জীবনের সেইসব দুঃখজনক ঘটনাগুলো যা তীব্র মানিসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল, যেমন গর্ভপাত, বিবাহবিচ্ছেদ, শিশুর অসুস্থতা কিংবা চাকরি হারানো প্রভৃতি। ক্যান্সারের সৃষ্ট মানসিক চাপ, চিকিৎসকদেরও দীর্ঘ সময় ধরে সহ্য করতে হয়। তবে, আমরা নিজেই ক্যান্সার ডেকে আনি কী না, তা নিয়ে মতবিরোধ আছে। বর্তমান সময়ে অনকোলজিস্টরা (ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ) এর বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন।

এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, নিজে নিজে ক্যান্সারের বীজ বপনে সক্ষম এমন মানসিক কারণ এখনো পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায়নি। তবে, মানসিক চাপ থেকে সৃষ্ট কিছু নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া, ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে এমন কোষসমূহকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

চাপযুক্ত পরিস্থিতি ক্যান্সারকে বিকশিত করে না, তবে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, চাপ বা ধকল নিজে ক্যান্সারকে প্ররোচিত করে না, বরং চাপের কারনে ব্যক্তির নিরুপায় হওয়ার উপলব্ধি, রোগের প্রতি শরীরের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।

ক্যান্সার বিস্তারের ক্ষেত্রে মানসিক কারণগুলোর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করার জন্য একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়। মেটাস্ট্যাটিক স্তন ক্যান্সারে (এমন ক্যান্সার যা তার স্বাভাবিক এলাকা অতিক্রম করেছে) আক্রান্ত ৮-১০ জন মহিলার উপর এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়, যারা প্রতি সপ্তাহে একে অপরের সাথে দেখা করতেন। তাদের ভয়, একাকীত্ব ও রাগ নিয়ে আলোচনা করতেন, সেই সাথে তাদের আকাঙ্ক্ষা, রোগের প্রতি তাদের আচরণ নিয়েও আলোচনা করতেন। বিদায় নেয়ার ১ বছর পূর্ব পর্যন্ত এই মহিলাগণ নিয়মিত একে অপরের সাথে দেখা করতেন। ঐ দলে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের মানসিক অবস্থার সাথে, আলোচনা‍য় অংশগ্রহণ করেননি এমন আক্রান্ত ও চিকিৎসা গ্রহণকারী মহিলাদের মানসিক অবস্থার তুলনা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, আলোচনা‍য় অংশগ্রহণকারী মহিলারা বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তায় কম ভুগতেন এমনকী শারিরীক ব্যথাও কম অনুভব করতেন। পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের পরিবারের সদস্যদের ফোন করার মাধ্যমে গবেষণা চালানো হয়। রোগ আক্রান্ত হওয়ার ১০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তাদের মধ্যে ৩ জন মহিলা নিজেই ফোনে কথা বলেন। তাদের অবস্থার জটিলতার বিবেচনা করে এটি ছিলো অবিশ্বাস্য। গ্রুপ সেশনে অংশগ্রহণ করেননি, কন্ট্রোল দলের এমন একজন মহিলাও এত দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকেননি। পরবর্তীতে সাপোর্ট বা সমর্থন গ্রুপে অংশগ্রহণকারী মহিলারা কতদিন পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন, তা পরিবারের সদস্যদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয় এবং তাতে দেখা হয় যে, এই মহিলাগণ গড়ে অন্যদের থেকে দ্বিগুণ সময় বেঁচে ছিলেন। নিয়মিত আলোচনা‍য় যোগদান করেছেন এমন মহিলা এবং অনিয়মিতভাবে যোগদান করেছেন এমন মহিলাদের মধ্যেও পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। যত নিয়মিত একজন মহিলার উপস্থিতি ছিলো, ততোই দীর্ঘ সময় তিনি বেঁচে ছিলেন।

একটি শরীরবৃত্তীয় ব্যাখ্যাতে দেখা যায় যে, ক্যান্সারের উপর মানসিক চাপের নেতিবাচক প্রভাব হরমোন নিঃসরণের সাথে সম্পর্কিত। এটা সবারই জানা যে, মানসিক চাপ হরমোন নিঃসরণের কারণ, যা শরীরের জরুরী অবস্থা, যেমন প্রদাহজনক প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিকে সক্রিয় করে তোলে এবং এভাবে টিউমার জন্ম ও বৃদ্ধি পাওয়াকে সহজতর করে তোলে। শরীরবৃত্তীয় কিছু কাজ যেমন পরিপাক, ক্ষতিগ্রস্থ টিস্যুর সংস্কার এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রভৃতি যা কিছু সময়ের জন্য ‘বিলম্বিত করা যায়’, সেই শরীরবৃত্তীয় কাজ গুলোকে, মানসিক চাপ ধীর করে তোলে।

তাহলে এই মানসিক চাপ কীভাবে কমানো যাবে? যোগব্যায়াম, ধ্যান কিংবা অন্যান্য শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম অনুশীলন করতে পারেন। নিরাময়ের জন্য কোয়ান্টাম মেথড অনেক ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীকে সাহায্য করেছে। আরেকটি অনস্বীকার্য পরামর্শ হলো সাপোর্ট বা সমর্থন গ্রুপে যোগদান করা। মায়া ভয়েস-এ আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন। নাম প্রকাশ না করে বা বেনামে আপনি অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন। কীভাবে মনের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখবেন সে সম্পর্কে আরো জানতে মায়া আপাকে-জিজ্ঞাসা করুন।