হেপাটাইটিস এ

হেপাটাইটিস এ

হেপাটাইটিস এ এক ধরনের ভাইরাল ইনফেকশন যা আমাদের দেশে খুবই সাধারণ।

লক্ষণ-

  • মৃদু জ্বর
  • গা ব্যথা
  • ডাইরিয়া
  • জন্ডিস
  • ঘন প্রস্রাব এবং ফ্যাকাসে পায়খানা
  • বড়, ব্যথাযুক্ত লিভার

 

চিকিৎসা

হেপাটাইটিস রোগের কোন চিকিৎসা নেই। যা করা হয় তা হচ্ছে রোগীকে যথাসম্ভব আরাম দাওয়া যতক্ষণ তার ইনফেকশন নিজে থেকেই সেরে না যায়। এর জন্য যা করা হয়-

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম
  • ব্যথানাশক ঔষধ (অবশ্যই অল্প পরিমাণে যেন তা লিভারের ক্ষতি না করে)
  • চুলকানো কমানো (যেমন ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা)
  • বমিরোধক ঔষধ খাওয়া
  • লিভারের ক্ষতি করে এমন কিছু না করা (যেমন মদ্যপান)

হেপাটাইটিস এ কিভাবে ছড়ায়?

হেপাটাইটিস এ ভাইরাস সাধারণত দূষিত খাবার বা পানি দিয়ে ছড়ায়। যার মানে হচ্ছে এই রোগ আছে এমন কারো পায়খানা দ্বারা দূষিত খাবার খেলে বা পানি পান করলে এই রোগ হতে পারে। তাছাড়াও, একই সিরিঞ্জ অনেকে ব্যবহার করলে, বা দৈহিক মিলন( বিশেষ করে পায়ুপথ দিয়ে) এর মাধ্যমেও এই রোগ ছড়াতে পারে। কিন্তু এই রোগ ছড়ানোর এটা খুবই বিরল মাধ্যম ।

একই জায়গায় অনেক মানুষ থাকলে যেমন হোস্টেল, স্কুল, আর্মি ব্যারাক (যেখানে একই খাবার সবাই খায়) সেখানে হেপাটাইটিস এ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে।

হেপাটাইটিস এ শিশুদের মধ্যে বেশী হয়। আর যাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী তারা হল-

  • যেসব পুরুষ অন্য পুরুষের সাথে দৈহিক সম্পর্ক করে পায়ুপথ দিয়ে
  • যারা নিয়মিত রক্তে মাদক নেয়
  • পঃয়োনিস্কাশনের কাজ করে যারা

টিকা

হেপাটাইটিস এ রোগের টিকা পাওয়া যায়। কিন্তু তা সাধারণত শুধুমাত্র তাদেরকেই দেয়া হয় যারা এমন কোথাও যাবে যেখানে এই রোগের প্রকোপ বেশী বা যারা এমনিতেই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী।

 

প্রতিরোধ

এই ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ২ সপ্তাহের মধ্যে টিকা এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

হেপাটাইটিস এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা সবার ( স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, যারা একসাথে থাকে রোগীর সাথে, দৈহিক সম্পর্কের সঙ্গী, এমনকি কারো জন্য খাবার রান্না করলে তাকেও) ডাক্তারি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত তাদেরও হেপাটাইটিস এ নেই। তাছাড়াও, স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার, রান্না করার আগে, খাওয়ার আগে এবং পায়খানার পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, ইত্যাদি সু- অভ্যাস পারে এই রোগ প্রতিরোধ করতে।

 

জটিলতা

  • পুনঃ-পাতন ১৫% মানুষেরই এই রোগ একের অধিক বার হয়।
  • পিত্ত থলিতে পিত্ত জমে থাকতে পারে। যার জন্য অনেক সমস্যা হয় যেমন-

জন্ডিস যা ৩ মাসেরও বেশী সময় ধরে স্থায়ী হতে পারে

জ্বর

ডাইরিয়া

ওজন কমে যাওয়া

এই সমস্যা নিজ থেকেই আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়।

  • লিভার ফেইলিউর

লিভার তার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। যার জন্য দেখা দিতে পারে-

খুব সহজেই রক্তপাত (নাক দিয়ে বা মাড়ি থেকে)

চুল পড়ে যাওয়া

ঘন ঘন কাঁপুনি দিয়ে জ্বর

শরীরে পানি জমা(যেমন পেটে, পায়ে)

সবসময় একটা ঘোরের মধ্যে থাকা/ দ্বিধান্বিত থাকা

ঔষধ দিয়ে কিছুটা ঠিক করা গেলেও অনেক সময় লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ছাড়া কোন উপায় থাকেনা।

0 comments

Leave a Reply