হাম

হাম একটি অতি সংক্রামক রোগ যা মিসেলস ভাইরাসের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। এটি একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যেখানে সাধারণত বাচ্চাদের জ্বর ও লালচে গুটি/ফুসকুরি দেখা যায়। এটি একটি বাতাসবাহিত রোগ এবং সংক্রমিত ব্যাক্তির হাচি/কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। এছাড়া লালা ও সর্দির মাধ্যমে ছড়াতে পারে।

হামের লক্ষ্মণঃ

সাধারনত আক্রান্ত ব্যাক্তি থেকে সংক্রমিত হওয়ার ১০-১২ দিন পর লক্ষন দেখা যায় এবং লক্ষণ গুলো ৭-১০ দিন স্থায়ী হয়। লক্ষণ গূলো হল –

  • জ্বর (১০৪ ডিগ্রী এর উপর)  
  • হাচি ও কাশি
  • কপ্লিক স্পট (লক্ষন শুরু হওয়ার ২/৩ দিন পর ছোট ছোট সাদা ক্ষত তৈরী হয়)
  • লালচে গুটি অথবা ফুসকুড়ি (আক্রান্ত হবার ৩-৫ দিন পর ছোট লালচে ফুসকুড়ি প্রথমে মুখে এরপর সারা শরীরে ছড়িয়ে পরে)
  • গলাব্যাথা
  • সর্দি বা নাক দিয়ে পানি পড়া
  • চোখ লাল হওয়া
  • আলো সংবেদনশীলতা
  • শরীর ম্যাজম্যাজ করা

হাম কেন হয়ঃ

শিশুদের এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্কদের হাম বেশি হয়। যেহেতু হাম একটি বাতাস-বাহিত রোগ তাই সহজেই আক্রান্ত ব্যাক্তির লালা ও সর্দি থেকে হাচি কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে।

হাম প্রতিরোধঃ

প্রতিষেধকের মাধ্যমে হাম প্রতিরোধ করা যায়। ইপিআই তালিকা অনুযায়ী শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজে হামের টিকা (এম আর টিকা) দেওয়া হয়। ১২ মাস বয়স ও তার উর্দ্ধের শিশুদের ২৮ দিন অন্তর ২ ডোজের টিকা দেওয়া যায়। বয়ঃসন্ধিকালীন ও প্রাপ্ত বয়স্কদেরও, যাদের আগে হাম হয় নি বা হামের টিকা দেওয়া হয় নি তাদের ক্ষেত্রেও ২৮ দিন অন্তর ২ ডোজে হামের টিকা নিয়ে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। ২ ডোজের হামের প্রতিষেধক হাম প্রতিরোধে প্রায় ১০০ ভাগ কার্যকরী। টিকা দেওয়া না থাকলে হাম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে সাধারনত, একবার হাম হলে দ্বিতীয়বার আর এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তবে যেহেতু এটি ছোঁয়াচে রোগ, তাই সবাইকে সতর্ক থাকা উচিত।

হাম হলে করনীয়ঃ

হামের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নাই। হামের লক্ষন গুলো প্রতিকার করায় হলো এর চিকিতসার মূল ধারা। হাম হলে প্রথমেই ডাক্তারের কাছে গিয়ে শনাক্ত করাতে হবে আসলেই হাম হয়েছে কিনা। হামের জ্বর সাধারনত তিন দিনের চিকিৎসাতেই ভালো হয়ে যায় এবং সাত দিনের মধ্যে প্রায় ক্ষেত্রেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন ওষুধ খাওয়া উচিত নয় এবং জটিলতা তৈরী না হওয়ার জন্য প্রথম দিন থেকেই ডাক্তারের নির্দেশে চলতে হবে। রোগীকে প্রতিদিন গোসল করতে হবে, দিনে কয়েকবার সারা শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিতে হবে, স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি প্রচুর পানি ও তরল খাবার খেতে হবে এবং বিশ্রাম নিতে হবেজটিলতা দেখা দিলে সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে দেখা করতে হবে।

হামের জটিলতাঃ

নবজাতক, ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, ২০ বছরের উর্দ্ধে প্রাপ্তঃবয়স্ক, গর্ভবতী মহিলা এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি হামের জটিলতার জন্য অধিক ঝুঁকিতে থাকে। হামের জন্য কিছু শারীরিক জটিলতা প্রায়ই হতে দেখা যায়। হাম থেকে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কপ্রদাহসহ জীবনের জন্য হুমকিস্বরুপ মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর জটিলতা গুলো হলোঃ

  • ডায়রিয়া
  • ব্রঙ্কাইটিস (শ্বাসনালীর প্রদাহ জনিত রোগ)
  • নিউমোনিয়া
  • এনকেফালাইটিস (মস্তিষ্ক প্রদাহ)
  • কানের ইনফেকশন
  • গর্ভপাত ও অপরিনত প্রসব
  • অন্ধত্ব (কর্নিয়ার ক্ষত)
  • রক্তে অনুচক্রিকার পরিমান কমে যাওয়া

সর্বোপরি এটা বিবেচনায় রাখতে হবে হামের জটিলতা যদিও মারাত্মক কিন্তু এটি প্রতিরোধ যোগ্য প্রতিষেধকের মাধ্যমে এবং হাম হলেই শুরুতে চিকিৎসা নিলে তা জটিলরূপ ধারণ করার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

 

0 comments

Leave a Reply