রুবেলা

রুবেলা একটি ভাইরাল ইনফেকশন, যা জার্মান মিসেলস নামেও পরিচিত। যদিও  রুবেলা এবং মিসেলস এর লক্ষনে কিছুটা মিল আছে বিশেষত এই দুই অসুখেই লাল র‍্যাশ দেখা যায়, কিন্তু দুইটি ভিন্ন ভাইরাসের কারনে এই অসুখ হয়ে থাকে। রুবেলার জন্য বিশেষ কোন চিকিৎসার প্রয়োজন নাই, ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তা কমে যায়। কিন্তু  গর্ভবতী মহিলাদের যদি গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এই ইনফেকশন হয় তাহলে তা শিশুর মধ্যে সংক্রমিত হয় যা মিস কার‍্যেজ, শিশুর কিছু জন্মগত ত্রুটি( কনজেনিটাল  রুবেলা সিন্ড্রোম)এবং শিশুর  মৃত্যু ঘটায়।

বাংলাদেশ সরকার নভেম্বর ২০১২ তে একটি জরিপে ৩৩টি  কনজেনিটাল  রুবেলা সিন্ড্রোম এর কেস পাওয়া যায় যার মধ্যে ৬টি ল্যাবে পরীক্ষিত। জরিপের ডাটা অনুযায়ী ২০১১ সালে  ৩৮টি  এবং ২০১২ সালে ২১টি রুবেলা কেস পাওয়া যায়।

এই কারনে বাংলাদেশ সরকার  একটি দেশব্যাপি ক্যাম্পেইন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে , যার ফলে সকল শিশু পূর্ববর্তী ভাক্সিন দেয়া থাকলেও এম আর ভ্যাক্সিনের একটি ডোজ নিবে । এভাবে ২০১৬ সালের মধ্যে রুবেলা এবং মিসেলস মুক্ত দেশ গড়া সম্ভব।

যেভাবে ছড়ায়

এই অসুখটি টোগা ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। যে কোন ভাইরাল অসুখের মত রুবেলা হাচি ,কাশি এবং থুতুর মাধ্যমে ছড়ায়।আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি কাশি দিলে জীবাণু বাতাসের মাধ্যমে অন্যকে আক্রান্ত করে।  

যদি কারো রুবেলা হয় , লক্ষন প্রকাশের এক সপ্তাহ আগে এবং র‍্যাশ উঠার তিন চার দিন পর্যন্ত এই রোগ ছড়াতে  পারে। রোগ হওয়ার তিন থেকে চার সপ্তাহ পরে লক্ষন প্রকাশিত হয়।

 

লক্ষন

এই রোগের লক্ষণগুলো এতই হাল্কা  যে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে না, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে । যদিও বা কিছু লক্ষন দেখা যায় তা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পর, এবং ২ -৩ দিনের মধ্যেই যা কমে যায়।যার মধ্যে আছে-

  • জ্বর( তাপমাত্রা ১০২ সেলসিয়াসের বেশি বা কম)
  • মাথা ব্যথা
  • বন্ধ নাক বা নাক দিয়ে পানি পড়া
  • চোখ লাল হয়ে পানি পড়া
  • গলা এবং কানের পিছনে লিম্ফ গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া এবং সেখানে ব্যথা হওয়া
  • হাল্কা লাল র‍্যাশ , যা প্রথমে মুখে দেখা দেয় পরে ধীরে ধীরে শরীরে এবং হাত , পায়ে ছড়িয়ে পড়ে

 

যদি প্রেগন্যান্ট অবস্থায় প্রথম ২০ সপ্তাহের মধ্যে রুবেলা হয় তখন তা মারাত্মক আকার ধারন করে।  এর ফলে শিশুর কিছু জন্মগত ত্রুটি দেখা যায় যাকে বলা হয় কনজেনিটাল রুবেলা সিন্ড্রোম । এর ফলে শিশুর কিছু লক্ষন দেখা যায় –

  • চোখের সমস্যা (ছানি)
  • বধিরতা(কানে না শোনা )
  • হার্টের সমস্যা
  • ব্রেইনের অসুখ

 

চিকিৎসা

রুবেলা র‍্যাশ অন্য ভাইরাল র‍্যাশের মতই হয়ে থাকে, তাই শুধুমাত্র ল্যাবে টেস্ট করে এই রোগ নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

এই রোগের কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসা নাই, লক্ষন প্রকাশের ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই তা কমে যায়। বাসায় থেকেই কিছু নিয়ম  পালনের মাধ্যমে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব-

  • বাসায় বিশ্রাম নেয়া
  • জ্বর এবং ব্যথা কমানোর জন্য পারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা
  • যদি ঘরে কোন শিশু, গর্ভবতী মহিলা থাকে তাকে দূরে আলাদা রাখতে হবে।

 

প্রতিরোধ

রুবেলা প্রতিরোধের  একমাত্র উপায় হল এম এম আর ভ্যাক্সিন । বাংলাদেশ সরকারের ই পি আই(এক্সপান্ডেড প্রোগ্রাম অন ইমুনাইজেসন)  প্রোগ্রামের অংশ হিসাবে এই ভ্যাক্সিন দেয়া হয়। প্রথম ডোজ ৯ মাস পূর্ণ হবার পর এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস পূর্ণ হবার পর দেয়া হয়। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ে টিকা নেয়ার মাধ্যমেই রুবেলা রোগ

প্রতিহত করা সম্ভব।

যে সমস্ত ছেলে মেয়ে এবং বয়স্ক মানুষ এই টিকা আগে নেন নি তারাও এম এম আর টিকা নিয়ে রোগ মুক্ত থাকতে পারেন।

 

0 comments

Leave a Reply