ম্যালেরিয়া

ম্যালেরিয়া একটি মারাক্তক রোগ যা অ্যানোফিলিস নামক মশার কামড় দ্বারা হয়ে থাকে। ম্যালেরিয়া পৃথিবীর অনেক দেশে একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে ম্যালেরিয়া কবলিত দেশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

ম্যালেরিয়া কীভাবে ঘটেঃ  

ম্যালেরিয়া একধরণের পরজীবী যাহা প্লাজমোডিয়াম হিসাবে পরিচিত সেটার দ্বারা সৃষ্ট হয়। Plasmodia প্যারাসাইট বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, কিন্তু মানুষের মধ্যে মাত্র পাঁচটির দ্বারা ম্যালেরিয়া হয়। সেগুলো হচ্ছে P. Falciparum, P.ovale, P.vivax, P.malariae, P.knowlesi.

এছাড়াও ম্যালেরিয়া রক্ত মাধ্যমে এবং অন্নের সূঁচ ব্যাবহারের  মাধ্যমে ছড়াতে পারে, কিন্তু সেটা অত্যন্ত বিরল।

কিভাবে ম্যালেরিয়া ছড়ায়?

ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকলেই ম্যালেরিয়া হয়না।ইহা হওয়ার জন্য ইহা  সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে আসতে হবে। একজন সংক্রমিত মানুষ যার রক্তে পরজীবী আছে তাকে মশা কামড় দিলে নিজে আক্রান্ত হয় যখন সেই একই মশা আরেকজন সুস্থ মানুষকে কামড় দেয় তখন সেই পরজিবি সেই সুস্থ মানুষের রক্তে ছরিয়ে যায়।

কাদের এই রোগের ঝুকি বেশিঃ

যেই সব অঞ্চলে ম্যালেরিয়া আছে সেখানে যারা বসবাস বা ভ্রমন করে।

যেখানে ম্যালেরিয়া বেশী সেখানে ভ্রমন করা এবং-
-ভ্রমন করার আগে, করার সময় বা করার পরে কোন ওষুধ না গ্রহন করে থাকলে।
-গ্রাম অঞ্চলে রাতের সময় বেশী বাইরে থাকলে, কারন সেই সময় যেইসব মশারা ম্যালেরিয়া ছড়ায় তারা বেশী কামড় দেয়।
-মশার কামর থেকে নিজেকে প্রতিরোধ করার জন্য কোন পদক্ষেপ না গ্রহন করলে।


ম্যালেরিয়ার লক্ষণগুলোঃ

এতে প্রচুর জর ও কাপুনি হয় এবং সময় মতো চিকিৎসা না করলে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।প্রাথমিক পর্যায়ে, ম্যালেরিয়া যেকোনো অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, বা প্যারাসাইট দিয়ে আক্রান্ত রোগের মতই দেখায়।

 

লক্ষণগুলো হচ্ছে-
•জ্বর.
•কাপুনি.
•মাথা ব্যাথা.
•ঘাম.
•ক্লান্তি.
•বমি বমি ভাব এবং বমি.

ম্যালেরিয়ার অন্যান্য উপসর্গ হতে পারেঃ
•পেশী বেদনা
•ডায়রিয়া
•সাধারণত অসুস্থ বোধ করা

ম্যালেরিয়ার জটিলতাঃ

ম্যালেরিয়ার সবচেয়ে সিরিয়াস টাইপ প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট হয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসা ছাড়া এই রোগ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পরে এবং জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাড়ায়।

এর দ্বারা কি কি ক্ষতি হতে পারেঃ

•মস্তিষ্কের তীব্র সংক্রমণ(সেরেব্রাল ম্যালেরিয়া), could not find the bangla of with seizures, confusion, and increasing tiredness leading to coma and death.
•ফুসফুসে পানি (পালমোনারি ইডিমা)
•কিডনির সমস্যা
•লিভারের সমস্যা এবং জন্ডিস(চোখ আর শরীর হলদে হয়ে যাওয়া)
•চামড়া ফুলে গিয়ে ফেটে যাওয়া।
•এপ্লাটিক এনেমিয়া।
•শ্বেত রক্ত কণিকার কমে যাওয়া।
•রক্তে চিনির পরিমান কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসিমিয়া)
•রক্তের লবন এবং পি এইচ কমে যাওয়া (লেক্তিক এসিডোসিস)
•ব্লাক ওয়াটার ফিভার (লোহিত রক্তকণিকা ব্যাপক ধ্বংস যার কারনে কালো রঙের প্রসাব হয়)

ম্যালেরিয়া কিভাবে প্রতিরোধ করা হয়?

প্রতিরোধের জন্য প্রাথমিক ভাবে ব্যাবহার করা উচিতঃ

মশারি
স্ক্রিনিং
রেপেলেন্ট

যেই সব জায়গায় ম্যালেরিয়া আছে সেই সব জায়গায় যাওয়ার আগে ,থাকার সময় এবং তার পরে ম্যালেরিয়ার প্রতিরোধের ওষুধ খাওয়া উচিৎ।এর জন্য ম্যালেরিয়া হওয়ার ঝুকি ৯০% মতো কমে যায়।কিন্তু এটা সবসমায় কার্যকর না।এটার আংশিকভাবে কারন হচ্ছে কিছু প্যারাসাইটের ওষুধ  প্রতিরোধী করার ক্ষমতা আছে।   

ম্যালেরিয়া নির্ণয় কীভাবে করার হয়ঃ

ম্যালেরিয়া হওয়ার প্যারাসাইট একজনের রক্তে আছে কিনা এটা দেখার জন্য ডাক্তার রা সাধারণত পুরু এবং পাতলা রক্ত smears ব্যাবহার করে থাকে। এই পরীক্ষা করা হয় এমন এক বেক্তির উপরে যিনি ম্যালেরিয়া আক্রান্ত এলাকা থেকে এসেছেন, যেখানে অনেক মশা আছে এবং যার গায়ে জ্বর ভাব রয়েছে।

এছাড়াও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত সময়ে ম্যালেরিয়া নির্ণয় করা যায়।

ম্যালেরিয়ার চিকিৎস্যাঃ
ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধ এবং নিরাময়ের জন্য এনটি-ম্যালেরিয়া ওষুধ নেয়া হয়ে থাকে। যেসব এলাকাতে ভ্রমনে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেই এলাকাতে ভ্রমণের পূর্বে সবার এনটি-ম্যালেরিয়া ওষুধ নেয়াটা বিবেচনায় রাখা লাগবে। যখনি এই ধরণের কোন পরিকল্পনা হবে তখন এলাকার নিকটবর্তী সাধারন চিকিৎসক এর পরামর্শ নিতে হবে। এনটি-ম্যালেরিয়া ওষুধ গ্রহনে সঠিক মাত্রা এবং কোর্স সম্পূর্ণ করার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।   

বাংলাদেশের ম্যালেরিয়া মহামারির অঞ্চলগুলোঃ
এগুল হোল বন্য পাহারি এলাকা, বনের পাড়, বনের পদদেশ, জেলাগুলো – রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন, চিটাগং, কক্সবাজার এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ।

0 comments

Leave a Reply