মাথা ব্যাথা

সাধারণত মাথা ব্যাথা জীবন সংশয়ের কারণ হয় না এবং ওষুধ, বিশ্রাম নেয়ার বিভিন্ন পদ্ধতি এবং জীবন যাপনের ধরন বদলানোর মাধ্যমেই এ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

কিছু সাবধানতা

আপনার মাথা ব্যাথা কী কারণে শুরু হয় তা বোঝার চেষ্টা করুন। তাহলে তা প্রতিরোধ করাও সহজ হবে। যেমন ধরুন, পানিশূন্যতার কারনে মাথা ব্যাথা হলে তার সমাধান হল প্রচুর পানি পান করা! এই আর্টিকেলটি পড়া শেষ হতে হতে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন পর্যাপ্ত পানি পান কতটা জরুরি।পর্যাপ্ত পানি পান না করলে মস্তিস্কে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যাবার কারণে মাথা ব্যাথা হয়।অতিরিক্ত চিনি খেলেও মাথা ব্যাথা হতে পারে, তাই সবচেয়ে ভাল হয় নিয়মিত বিরতিতে অল্প পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। চকোলেট, চিজ এবং কৃত্রিম উপায়ে মিষ্টি করা খাবার এড়িয়ে চলুন এবং অন্যান্য সাপ্লিমেন্টের সাথে রিবোফ্লাভিন (riboflavin), ম্যাগনেসিয়াম (magnesium) ও কো এঞ্জাইম Q10 (coenzyme Q10 along) খান।

কফি খেলে মাথা ব্যাথা শুরু হতে পারে, আবার ব্যাথা থেকে মুক্তি পেতেও কফি সাহায্য করতে পারে। তাই শরীরে যে মাত্রার ক্যাফেইনে অভ্যস্ত তার ঘাটতি মাথা ব্যাথার কারণ হলে, কফি খাওয়াটা তার সমাধান। তবে নিয়মিত চা বা কফি পানের ফলে আপনি এগুলোর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। তাতে করে নতুন ভাবে মাথা ব্যাথা ফিরে আসতে পারে, যা আপনার বর্তমান মাথা ব্যাথার চাইতে অনেক খারাপ হতে পারে।

আরেক ধরনের দ্রুত সমাধান হল প্যারাসিটামলের মত ব্যথানাশক সেবন, যা দুশ্চিন্তাজনিত মাথা ব্যাথার উপশম করতে পারে। মাথা ব্যাথা শুরু হওয়ার সাথে সাথে পূর্ণমাত্রার ওষুধ সেবন করা সবচেয়ে ভাল। যদি দরকার হয় তাহলে চার ঘণ্টা পর আরেক ডোজ ওষুধ খেতে পারেন। কারো কারো বেলায় প্যারাসিটামলের চেয়ে ইবুপ্রোফেনের মত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি (Anti-inflammatory) ব্যাথানাশক বেশি কার্যকর হতে পারে। তবে এগুলোতে কিডনির ক্ষতি হতে পারে, তাই বেশি খাওয়া ঠিক নয়।

মাথার যে অংশে ব্যাথা সেখানটায় আইস-প্যাক চেপে ধরুন। মাথা দপ দপ করলে এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে ভাল কাজ হয়। অথবা ওই জায়গাটি পেপারমিন্ট অয়েল (peppermint oil) দিয়েও মালিশ করতে পারেন। বহুল ব্যবহৃত “টাইগার বাম” কাজ করে যদি আপনি এটি দিয়ে ঠিকভাবে মালিশ করতে পারেন। অল্প একটু আপনার বুড়ো আঙ্গুল ও তর্জনীতে নিয়ে মাথার যেখানে বেশি ব্যাথা সেই জায়গাটিতে হালকা চাপ দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মালিশ করুন। এভাবে চাপ দিয়ে ১৫ সেকেন্ড মত মালিশ করার পর ছেড়ে দিন। প্রয়োজনে আবার একই রকম ভাবে মাসাজ করুন।

ঘাড়ের ব্যায়াম (neck stretching) করে দেখতে পারেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘাড়ের পেশিতে খিঁচুনির (spasm) কারনে মাথা ব্যাথা করতে পারে। নিচের ব্যায়ামগুলো প্রতিদিন দু’বেলা ২০ মিনিট করে করে দেখুনঃ

● থুতনি সামনের দিকে আগানো, উপরে তোলা, এবং পর্যায়ক্রমে দুই কাঁধের দিকে ফেরানো,  ইত্যাদির মাধ্যমে ঘাড় নাড়াচাড়া।

● দুই কাঁধ উপরে তুলে ধরুন, তারপর কাঁধ উপরে তুলে ধরে রেখে সামনের দিকে নিন, তারপর কাঁধ উপরে তুলে ধরে রেখে পিছনের দিকে নিয়ে যান (shoulder shrugs )।

● আপনার হাতের তালু দিয়ে কপালে চাপ দিন এবং ধরে রাখুন; মাথার দু’দিকে হাত দিয়ে চাপ দিন (neck isometrics)।

যদি ঘুম কম হওয়ার কারনে মাথা ব্যাথা করে তাহলে ঘুমের পরিমাণ ঠিক করে আপনার সমস্যা সমাধান করতে পারেন। অতিরিক্ত মাথা ব্যাথা করলে ঘুমিয়ে পড়ুন অথবা একটি অন্ধকার নিরিবিলি ঘরে শুয়ে থাকুন।

গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যাথার মোকাবেলা কিভাবে করবেন জানতে গর্ভকালীন মাথা ব্যথা বিষয়ক নিবন্ধটি

পড়ুন। হরমোনের পরিবর্তনের সাথে মাথা ব্যাথার কী সম্পর্ক তা জানতে হরমোনের পরিবর্তন ও

মাথা ব্যথা আর্টিকেলটি পড়ুন।

0 comments

Leave a Reply