বুকের দুধ বের করে রাখা

স্তন থেকে দুধ বের করার অর্থ হলো আপনার বাচ্চাকে যাতে পরবর্তীতে খাওয়ানো যায় এজন্য চাপ প্রয়োগে বুকের দুধ বের করে রাখা।

যদি আপনাকে বাচ্চার কাছ থেকে দূরে যেতে হয়, তাহলে চাপ প্রয়োগ করে দুধ বের করে রেখে যেতে পারেন। আপনার সন্তান যদি অসুস্থ বা অপুর্ণকালীন হয় কিংবা আপনাকে যদি কাজের জন্য বাইরে যেতে হয়, তাহলে আপনি এ কাজটি করতে পারেন। পর্যাপ্ত বুকের দুধ হওয়ায় আপনি যদি অস্বস্তিবোধ করেন অথবা আপনার বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতে চাইলেও যদি ভালোভাবে চুষে না খেতে পারে, তাহলে আপনি স্তন থেকে দুধ বের করতে পারেন। আপনার বাচ্চার প্রথম সুষম খাবার হিসেবেও আপনি স্তন থেকে দুধ বের করে দিতে পারেন।

 

কিভাবে এটি করা যায়?

হাত অথবা ব্রেস্ট পাম্প ব্যবহার করে দুধ বের করতে পারবেন। একেক জন নারীর জন্য একেক ধরনের পাম্প উপযোগী, তাই কেনার আগে পরামর্শ নেওয়া উচিত। যদি পুর্বে কোন একটি দ্বারা চেষ্টা করা হয় তাহলে তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। তবে ব্যবহারের আগেই নিশ্চিত হবেন কন্টেইনার বা পাম্পটি পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত কিনা।

 

হাতের দ্বারা চাপ প্রয়োগ

পাম্প ব্যবহারের তুলনায় হাত দিয়ে স্তন থেকে দুধ বের করা আপনার জন্য সহজ হবে,বিশেষ করে প্রথম দিনগুলোতে। পাম্প না কিনতে পারলে বা কারো কাছ থেকে না নিতে পারলে আপনি এটি করতে পারেন।

নিম্নের পরমর্শগুলো আপনার জন্য সহায়ক হবেঃ

প্রথমেই সাবান ও গরম পানি দিয়ে আপনার হাত ধুয়ে নিন এবং আলতোভাবে স্তনে মালিশ করুন।

আপনার স্তন এমনভাবে ধরুন যেন অ্যারোলার(স্তনের কালো অংশ) ঠিক পিছন দিকে হয়।

বৃদ্ধাঙ্গুল এবং অন্যান্য আঙ্গুল এমনভাবে ব্যবহার করুন যাতে তা C শেপের হয়(এ বিষয়ক ছবি দেখুন), আলতোভাবে চাপ দিন। এর ফলে আপনি আঘাত পাবেন না (ব্যথা পেলে বা চাপ দিতে না পারলে সরাসরি নিপ্‌লে চাপ দিবেন না)। এই পেজের নিচের ভিডিওতে দেখতে পারেন কিভাবে এটি করা যায়।

চাপ দিয়ে ছেড়ে দিন, পুনরায় আবার চাপ দিন; এভাবে ছন্দ তৈরী করুন। ত্বকের উপর আপনার আঙ্গুল যাতে না পিছলে যায় সে চেষ্টা করুন। প্রথমে একফোঁটা দেখতে পাওয়া যাবে, কিন্তু আপনাকে চেষ্টা করতে হবে যাতে সঠিকভাবে দুধের সরবরাহ চলতে থাকে। অল্প কিছুদিনের অভ্যাসের দ্বারা সঠিকভাবে দুধ নির্গত হবে।

যখন আর দুধ বের হবেনা তখন স্তনের উপর আরেকভাবে বৃত্তাকারে আঙ্গুল ঘুরিয়ে পুনরায় চেষ্টা করুন।

অল্প পরিমানে দুধ নির্গত হলে স্তন পরিবর্তন করুন। এভাবে স্তন পরিবর্তন করতে থাকুন যতক্ষণ পর্যন্ত খুবই অল্প পরিমানে দুধ নির্গত হয় বা বের হওয়া বন্ধ হয়।

দুধ বের হওয়া বন্ধ হলে নিপ্‌লের চারপাশে ধীরে ধীরে আঙ্গুল দিয়ে নেড়ে চেষ্টা করুন বা স্তনে আলতোভাবে মালিশ করুন।

দুধ সংগ্রহের জন্য স্তনের নিচে যে দিক দিয়ে দুধ নির্গত হয় সেখানে একটি জীবাণুমুক্ত বোতল বা কন্টেইনার ধরুন।

 

কাপে খাওয়ানো

অনেক সময় আপনার বাচ্চার অতিরিক্ত দুধের প্রয়োজন হতে পারে বা বুকের দুধ পেতে সমস্যা হতে পারে।এই সময় আপনার নিয়োজিত নার্স আপনাকে স্তন থেকে দুধ বের করে কাপে খাওয়ানোর পরামর্শ দিতে পারেন। আপনার সন্তানের শ্বাসরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে যতদিন পর্যন্ত না আপনি আত্নবিশ্বাসী হবেন, ততদিন অভিজ্ঞ নার্সের তত্ত্বাবধানে এটি করুন।

 

বুকের দুধ সংরক্ষণ

জীবাণুমুক্ত পাত্রে আপনি বুকের দুধ সংরক্ষণ করতে পারেনঃ

ফ্রিজে ৪° সে বা এর চেয়ে কম তাপমাত্রায় পাঁচদিন পর্যন্ত রাখতে পারেন

ফ্রিজের আইস কম্পার্টমেন্টে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত রাখা যায়

ফ্রিজারে ছয় মাস পর্যন্ত রাখা যায়।

অবশ্যই সবসময় জীবাণুমুক্ত পাত্রে বুকের দুধ সংরক্ষণ করতে হবে। যদি আপনি পাম্প ব্যবহার করেন, তাহলে ব্যবহারের পুর্বে এবং পরে তা জীবাণুমুক্ত করবেন।

 

বরফে জমা হওয়া দুধ গলানো

যদি আপনি দুধ বরফ জমিয়ে রাখেন, তাহলে এটি গলে যাওয়ার পর আপনার সন্তানকে দিন। গলে গেলেই সরাসরি এটি ব্যবহার করুন।প্রক্রিয়াজাত দুধের চেয়ে জমিয়ে রাখা বুকের দুধ আপনার সন্তানের জন্য ভালো। তবে একবার গলানো দুধ পুনরায় বরফ জমিয়ে রাখবেন না।

 

বুকের দুধ গরম করা

আপনার বাচ্চা যদি ঠান্ডা দুধ খেতে পছন্দ করে, তাহলে সরাসরি ফ্রিজ থেকে বের করে খাওয়াতে পারেন। অথবা কুসুম গরম পানিতে রেখে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় নিয়ে আসতে পারেন। কখনো মাইক্রোওয়েভে দিয়ে দুধ গরম করবেন না বা এমন গরম করবেন না যাতে আপনার বাচ্চার মুখ পুড়ে যায়।

 

আপনার সন্তান হাসপাতালে থাকলে

আপনার সন্তান অপুর্ণকালীন অথবা অসুস্থ থাকার কারনে যদি আপনি স্তনের দুধ বের করে খাওয়াতে চান, তাহলে হাসপাতালে কর্মরত ব্যক্তিদের সাথে আপনার সন্তানের যত্নের বিষয়ে কথা বলুন। বুকের দুধ্ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে হাসপাতালের পরামর্শ মেনে চলুন।                        

 

0 comments

Leave a Reply