পুরুষাঙ্গের আকার

পুরুষাঙ্গের আকার
সব জায়গাতেই ছেলেরা তাদের পুরুষাঙ্গের আকার স্বাভাবিকের চাইতে ছোট বা এটি তাদের সঙ্গীকে তৃপ্ত করতে পারবে না এই ভেবে দুশ্চিন্তিত থাকে। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায় যে বেশিরভাগ পুরুষই তাদের গর্ব ও আনন্দের বস্তুটিকে খাটো করে দেখেন। নিজেকে অসম্পূর্ণ মনে করাটা একজন মানুষের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত ও তার সামাজিক জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে। এ থেকে পাব্লিক টয়লেটে প্রস্রাব করা থেকে শুরু করে কারো সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে মেশা পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যা হতে পারে।

পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে ট্যাবলেট, লিঙ্গ দীর্ঘ করার সরঞ্জাম এবং অন্যান্য জিনিস, যা দিয়ে “পুরুষাঙ্গ দীর্ঘ ও মোটা” করা যাবে (বিফলে মুল্য ফেরত!), বিক্রি করে আসছে।


পুরুষাঙ্গের মাপ
বেশিরভাগ পুরুষেরই তাদের লিঙ্গ সম্পর্কে যা ধারনা সেটি শৈশবে গড়ে ওঠে। বেড়ে ওঠার সময় তারা তাদের বড় ভাই, বন্ধু বা পরিবারের অন্য কারো পুরুষাঙ্গ দেখে থাকতে পারে এবং সেটির সাথে নিজের পুরুষাঙ্গের তুলনা করে।

কৈশোরে অন্য কারো ভয়ভীতি প্রদর্শন বা কোন যৌনসঙ্গীর মন্তব্য থেকেও পুরুষাঙ্গের আকার সম্পর্কে তাদের মনে উদ্বেগ বা ভীতি দানা বাঁধতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে আপনি যখন আপনার নিজের পুরুষাঙ্গের দিকে তাকান তখনা তা আপনার কাছে এটি যতটা না ছোট তার চেয়ে বেশি ছোট মনে হয়। কিন্তু অন্য কারো পুরুষাঙ্গের দিকে তাকালে, মুলত একপাশ থেকে দেখার কারনে, এটিকে যতটা না বড় তার চেয়ে বেশি বড় মনে হয়।

অন্যের দৃষ্টি ভঙ্গিতে নিজের পুরুষাঙ্গ দেখতে চাইলে একটি পূর্ণ মাপের আয়নার সামনে বিবস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখুন। উপর থেকে তাকালে যা মনে হয় তার চেয়ে বড় ও লম্বা মনে হবে। বেশিরভাগ ছেলেই কোন না কোন সময় একটি স্কেল বা টেপ দিয়ে তাদের পুরুষাঙ্গ মেপে দেখেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে পুরুষাঙ্গ শিথিল থাকা অবস্থায় এটি করার কোন মানে হয় না কারণ, এসময় পুরুষাঙ্গের মাপ বিভিন্ন কারণে (যেমনঃ ঘরের তাপমাত্রা) বিভিন্ন রকম হতে পারে। সঠিক মাপ পাওয়ার জন্য যখন পুরুষাঙ্গ সুদৃঢ় অবস্থায় থাকবে তখন মাপুন। তল পেটের কাছে পুরুষাঙ্গের গোড়া থেকে নিয়ে আগার ছিদ্রটি পর্যন্ত দৈর্ঘ্য মাপুন।

পুরুষাঙ্গের গড় আকৃতি

টিনেজারদের জন্য এর কোন গড় দৈর্ঘ্য নেই, কারণ একেক জন একেক গতিতে বেড়ে ওঠে। পূর্ণ বয়স্কদের ক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গের গড় আকৃতি ১৪-১৬ সে.মি. (৫.৫-৬.৩ ইঞ্চি)। একটি সুদৃঢ় পুরুষাঙ্গের ঘের হয় ১২-১৩ সে.মি. (৪.৭-৫.১ ইঞ্চি)।

একটি পুরুষাঙ্গকে অস্বাভাবিক ছোট মনে করা হয় যদি সুদৃঢ় অবস্থায় এটির দৈর্ঘ্য ৩ ইঞ্চি (৭.৬ সে.মি.)-এর কম হয়। সুদৃঢ় অবস্থায় পুরুষাঙ্গ বিভিন্ন কোনে থাকতে পারে। কোন উত্তেজিত পুরুষাঙ্গ একদম সোজা উপরের দিকে তাক হয়ে থাকে, কোনটি একেবারে নিচের দিকে। কোন কোনটি সামান্য ডানে বা বামে বেঁকে থাকতে পারে। ‘সঠিক’ ভঙ্গি বলতে কিছু নেই। যদি আপনার পুরুষাঙ্গ বেশি রকমের বেঁকে থাকে এবং এতে সঙ্গমের সময় আপনার অসুবিধা হয় তাহলে ডাক্তারের কাছে যান। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি পিরোনি’স ডিজিজ (Peyronie’s disease)-এর লক্ষন।

প্রতিটি পুরুষাঙ্গই আলাদা এবং ছেলেরা বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন গতিতে বেড়ে ওঠে।

পিউবার্টি বা বয়ঃসন্ধির সময় (১১ থেকে ১৮ বছরের ভেতর) পুরুষাঙ্গ অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তবে এটি ২১ বছর বয়স পর্যন্ত বড় হতে থাকে।


অসন্তুষ্ট পুরুষেরা
আকার আসলে যাই হোক না কেন পুরুষেরা তাদের পৌরুষের আকৃতি নিয়ে খুশি হতে পারে না। ৫০,০০০-এরও বেশি পুরুষ ও নারীর উপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে যে ৪৫% পুরুষ আরও বড় আকারের পুরুষাঙ্গ থাকলে ভাল হত বলে মনে করে। এই জরিপটিতে দেখা যায় যে তুলনামূলক ছোট আকারের পুরুষাঙ্গ যাদের তাদের চাইতে যাদের পুরুষাঙ্গ গড় আকৃতির তারা পুরুষাঙ্গের আকৃতি নিয়ে বেশি সচেতন থাকে।


নারীরা কী ভাবেন?
এই জরিপটিতে নারী ও পুরুষের চিন্তার মধ্যে কতটা ফারাক তাও দেখা গেছে। ৮৫% নারীই তাদের সঙ্গীর পুরুষাঙ্গের আকৃতি নিয়ে সন্তুষ্ট, যেখানে কেবল ৫৫% পুরুষ তাদের নিজেদের পুরুষাঙ্গের আকৃতি নিয়ে সন্তুষ্ট।

গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে যখন সঙ্গমের প্রশ্ন আসে তখন নারীরা আপনার পুরুষাঙ্গের আকৃতির চাইতে আপনি রোম্যান্টিক, দরদী, যত্নবান, এবং তাদের প্রয়োজনের ও চাহিদার প্রতি সহানুভূতিশীল কিনা এগুলোর প্রতি বেশি নজর দেন।


আপনি এখনও চিন্তিত হয়ে থাকলে
পুরুষাঙ্গ নিয়ে উদ্বিগ্ন এমন পুরুষদেরকে কাউন্সেলিং এবং শিক্ষা দিলে উপকার পাওয়ার প্রমান পাওয়া গেছে। থেরাপি দিলে রোগীরা তাদের পুরুষাঙ্গ নিয়ে যেকোনো ভ্রান্ত ধারনা সনাক্ত করতে ও শুধরে নিতে পারেন এবং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিয়ে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাদের ভয় কাটিয়ে উঠতে পারেন। অনেক ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদানকারীই দাবি করে যে তাদের সেবাগুলো নিলে পুরুষাঙ্গের আকার বৃদ্ধি পায়, কিন্তু এর স্বপক্ষে খুব সামান্য প্রমান পাওয়া যায়। এই সব টিভি বিজ্ঞাপন, যেগুলোতে বিভিন্ন হারবাল ও হোমিওপ্যাথিক ক্লিনিকে বিকলাঙ্গ পুরুষাঙ্গ ঠিক করার ও যৌনশক্তি বৃদ্ধি করার ওষুধ, মলম, মালিশ ইত্যাদি বিক্রির কথা বলা হয়, এড়িয়ে চলুন। এগুলোতে কাজ হলে কোন বিজ্ঞাপন দেয়ার দরকার হত না।

এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মারাত্মক হতে পারে এবং এর কারনে আপনার স্বাভাবিক যৌনক্ষমতাও নষ্ট হতে পারে। তাই আপনি আপনার পুরুষাঙ্গের আকৃতি নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করান। এটি যদি ঠিকভাবে কাজ করে তাহলে আর দুশ্চিন্তা করবেন না। মেয়েদের যোনিপথ গড়ে সর্বোচ্চ তিন ইঞ্চি হয়, তাই অনেক লম্বা পুরুষাঙ্গ দিয়ে আসলে কোন বিশেষ কাজ হয় না।

0 comments

Leave a Reply