নিরাপদ সময়

নিরাপদ সময়
নিরাপদ সময়বলতে মাসিক চক্রের সেই সময়কে বোঝায় যখন অনিরাপদ যৌন সহবাস করার ফলে নারীদের গর্ভধারণের সম্ভাবনা কম  থাকে । এটি জন্ম নিয়ন্ত্রণের একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি এবং যখন অন্যান্য প্রাকৃতিক পদ্ধতি, যেমন পুরুষ সঙ্গীর ক্ষেত্রে “পুরুষাঙ্গ বের করে নেয়া” পদ্ধতির সাথে যুক্ত করা হয়, তাহলে শরীরের তাপমাত্রা ও কার্ভিকাল ক্ষরণের উপর ভিত্তি করে এটি ৯৫% পর্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতির অসফলতার হার অনুশীলনের মাধ্যমে হ্রাস পেতে থাকে। তারপরও অন্যান্য অধিক কার্যকর গর্ভনিরোধ পদ্ধতি যেমন কনডম, হরমোনযুক্ত পিল অথবা ইন্ট্রটেরাইন ডিভাইস প্রভৃতি গ্রহণে আমরা সমর্থন দেই ।

নিরাপদ সময় গণনার জন্য এটা জেনে রাখতে হবে যে শুক্রাণু জরায়ুতে ৭দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে এবং ডিম্বস্ফোটনের পর যখন ডিম্বাণু অবমুক্ত হয়ে পড়ে, তখন এটি সেখানে ১ দিন অবস্থান করে। তাই ডিম্বস্ফোটনের ৭দিন পূর্ব পর্যন্ত এবং পরবর্তী ২৪ ঘন্টা গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত সময় ।

গর্ভনিরোধক পদ্ধতি বিহীন যৌন সহবাস করার জন্য এবং গর্ভধারণের ঝুঁকি থাকবে না এমন নিশ্চিতনিরাপদ সময় মাসে নেই। তবে মাসিক চক্রতে এমন সময় আছে যখন গর্ভধারণের মাত্রা উচ্চ হারে থাকে এবং তখন গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । সাধারণ সময় থেকে গর্ভধারণের সুযোগ যখন কম থাকে, তখন তা নিরাপদ সময় বলে বিবেচিত । তবে মাসিক অনিয়মিত হলে, এটি কম নির্ভরযোগ্য ।


নিরাপদ সময়কাল

নিরাপদ সময়কালের ২টি অংশ বা ধাপ রয়েছে । একটি হলো মাসিক চলাকালে ও এর পরবর্তী সময় এবং দ্বিতীয় অংশ হলো ডিম্বস্ফোটনের কয়েক দিন পর

১) প্রথম অনুর্বর কাল শুরু হয় মাসিকের মধ্য দিয়ে এবং যেহেতু শুক্রাণু ৭দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে, তাই এ অনুর্বর কাল ডিম্বস্ফোটন শুরু হওয়ার প্রায় ৭ দিন পূর্ব পর্যন্ত স্থায়ী হয় । ২৮ দিনের চক্রে ডিম্বস্ফোটন ঐ চক্রের ১৪তম দিনে হয় যা একইসাথে মাসিক শুরু হওয়ার ১ম দিন । যদি চক্র দীর্ঘ হয়, অর্থাৎ যদি এটি ৩২ দিনের হয়ে থাকে, তাহলে ডিম্বস্ফোটন প্রায় ১৮তম দিনে শুরু হয়। এখানে ডিম্বস্ফোটন গণনাকারী (ovulation calculator) দ্বারা ডিম্বাণু অবমুক্ত হওয়ার অর্থাৎ ডিম্বস্ফোটনের দিন জানতে পারবেন । নিরাপদ সময়কালের ১টি অংশ মাসিক শুরুর দিন থেকে শুরু করে ডিম্বস্ফোটন শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ পূর্ব পর্যন্ত স্থায়ী হয় ।

২) নিরাপদ সময়ের ২য় অংশ দীর্ঘ হয় এবং তা সহজেই শনাক্ত করা যায়। এটি উর্বর কাল বা ডিম্বস্ফোটনের শেষ থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী মাসিক পর্যন্ত স্থায়ী হয়

মাসিক চক্র ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে তবে সাধারণত ২৬-৩২ দিনের মধ্যে হয়ে থাকে। যদি মাসিক চক্র নিয়মিত ২৮ দিনের বিরতিতে হয়ে থাকে, তাহলে গণনা করা সহজ। যদি বিরতির পর্যায় ভিন্ন হয় অর্থৎ ২৮ দিনের মধ্যে না হয়ে থাকে, তাহলে অনুর্বর কাল গণনার জন্য নিম্নোক্ত সহজ পদ্ধতিটি ধাপে ধাপে অনুসরণ করুনঃ

দীর্ঘতম মাসিক চক্রের দিন থেকে ১০ দিন বাদ দিন; যা থেকে অনুর্বর কালের শেষতম দিন পাওয়া যাবে। সবচেয়ে কম দিনের মাসিকচক্রের দিন থেকে ১৮ দিন বাদ দিলে উর্বর কালের ১ম দিন পাওয়া যাবে।

উদাহরণস্বরূপ, যদি মাসিকচক্র ২৮ থেকে ৩০ দিনের বিরতিতে হয়, তাহলে

৩০-১০ = ২০ ২০তম দিন হচ্ছে অনুর্বর কালের শেষ দিন

২৮-১৮ = ১০ম দিন হচ্ছে উর্বর কালের ১ম দিন

চক্রের ১০ম ও ২০তম দিনের সময়কাল হলো উর্বর কাল এবং মাসের বাকী সময় হচ্ছে নিরাপদ সময় ।

সবচেয়ে দীর্ঘ ও সবচেয়ে কম দিনের চক্র দেখার জন্য ৬ মাস যাবত মাসিকচক্র পর্যবেক্ষণ করুন । যৌনমিলন কখন এড়িয়ে চলতে হবে তা জানার জন্য উর্বর কাল ও নিরাপদ সময় গণনা করুন । মাসিক শেষ হওয়ার পরপরই গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না, তারপরও এটি হতে পারে । যদি ডিম্বস্ফোটন দ্রুত হয়ে যায় তাহলে মাসিক শেষ হওয়ার সাথে সাথেই গর্ভধারণের সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়া সম্ভব, বিশেষ করে মাসিক চক্র যদি প্রাকৃতিকভাবে দীর্ঘ না হয়ে থাকে।

কোনো নিশ্চিত নিরাপদ সময় নেই তা আগে বলা হয়েছে, তাই অযাচিত গর্ভধারণ এড়ানোর জন্য আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ জন্মনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করার জন্য দৃঢ় ভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রাপ্ত বিভিন্ন ধরণের জন্মনিরোধক পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে এই লিঙ্কটিতে যানঃ here

0 comments

Leave a Reply