টাইফয়েড

টাইফয়েডশব্দটি শুনা মাত্রই আতঙ্ক কাজ করে চলুন তাহলে অল্প কথায় জেনে নেই, এই আতঙ্ক আমাদের জন্য আদৌ ক্ষতিকর কিনা এবং এর থেকে পরিত্রানের উপায়  

 

ছোট্ট ইতিহাসস্বল্প কথায়টাইফয়েডেরউৎপত্তি কিভাবে?

‘মেরি ম্যালন’ এক আমেরিকান নারী, যিনি আমেরিকাতে একটি খাবারের দোকানে বাবুর্চি ছিলেন তিনি প্রথম সনাক্তকৃত নারী যার মধ্যেটাইফয়েডরোগের জীবানু (ব্যাকরেটিয়া) পাওয়া গিয়েছিল

আনুমানিকভাবে ধরা হয়েছে যে, তিনি তার কর্মজীবনে এই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা প্রায় ৫১ জন মানুষকে সংক্রামন করে ফেলেছিলেন

১৯০৭  ১৯১৬ সালে দুইবার এই নারীকে টাইফয়েডের জন্য নির্ণিত করা হয় এর সংবাহক হবার দরুন অন্তরনও করা হয় পর্যবেক্ষনের জন্য তিনি  ৬৯ বছর বয়সে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হবার দরুন ইন্তেকাল করেন  

 

টাইয়েড জ্বর কি ?

টাইফয়েড  জ্বরের অপর নাম হচ্ছে এনটারিক ফিভার (জ্বর) এটি একটি সংক্রামক ব্যাধি যা একের থেকে অন্যের হবার সম্ভাবনা আছে এবং একটি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়ে থাকে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরের অভ্যন্তরীন যে কোন অংশে বাসা বাধার ফলে পুরো শরীরেই এর প্রভাব বিস্তার করে ফেলে  

ব্যাকটেরিয়াটির নাম হচ্ছেস্যালমনেলা টাইফি  তবে এদের মধ্যে অন্য একটি প্রজাতি আছে যাকে বলা হয়স্যালমনেলা প্যারাটাইফি প্যারাটাইফি দ্বারা আক্রান্ত হলে শারীরিক অবনিত দ্রুত জটিল হতে পারে

 

এটি কি জীবান ঝুঁকিপূর্ণ রোগ?

যদি সময়মতোন চিকিৎসাধীন না হয় সেক্ষেত্রে এটি জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে মানুষিক, শারীরিক অবনতি ঘটানোর মাধ্যমিক মৃত্যুও বয়ে আনতে পারে তাই প্রথম হতেই সচেতনতা প্রয়োজন

 

কিভাবে এর সংক্রামন ঘটে ?

এটি একটি পানিবাহিত রোগ যা গাদমৌখিক মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে যে কোন আক্রান্ত ব্যক্তির মলমূত্রে এর জীবানুর পরিমান সবচেয়ে বেশী থাকে এই মলমূত্র যেই পানিকে কলুষিত করে, ঐসকল স্থানের কলুষিত পানি সুস্থ্য মানুষরা ব্যবহারের ফলে সহজেই আক্রান্ত হওয়া সম্ভব এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির হাতের তৈরি খাবার, পরিধানকৃত কাপড় অর্থাৎ তাদের সংস্পর্শের মাধ্যমেও এমন হতে পারে কিছু সংখ্যক এর বাহক হয়ে থাকে অর্থাৎ জীবানু টি তাদের ক্ষুদ্রান্তে বাসা বেঁধে থাকে এবং তাদের কোন লক্ষ্যন থাকে না কিন্তু এদের থেকেও সংক্রামন হওয়া সম্ভব

আমাদের দেশে বিশেষ করে গ্রাম্য অঞ্চলে পুকুর নালা নর্দমার কলুষিত পানি দৈনন্দিন জীবনের কাজে ব্যবহারের ফলে এর সংক্রামন বেশী দেখা দেয় গোসলের সময় নাক, মুখ দ্বারা পানির সাথে এই জীবানু ক্ষদান্ত, বৃহদান্ত পিত্তথলিতে এর আস্তানা খুঁজে  নেয় যার ফলে অনেকই  এর বাহক হিসেবে সমাজে থাকার দরুন সবার মধ্যে ছড়িয়ে যায়

 

কি কি লক্ষ্যন দেখে বুঝাব আমার টাইফয়েড আছে কি না ?

এই ব্যাকটেরিয়া আমাদের শরীরে দ্বিগুন হতে শুরু করে  ১০১৪ দিনের মাথায় এবং এর প্রভাব আমাদের শরীরে ২১ দিনের মধ্যে দ্রুতভাবে ছড়িয়ে পরে

লক্ষ্যন সমূহ গুলো হচ্ছে

 

প্রথম সপ্তাহ ঃ   

  • জ্বরনিম্ন তাপমাত্রা হতে শুরু করে, ধীরে ধীরে এটি  ১০৪.৯ক্ক  ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌছাতে পারে (মৈ বেয়ে তাপমাত্রা উঠা বলা হয়)  
  • তীব্র মাথা ব্যাথা
  • ফুসকুড়ি
  • শুষ্ক কাঁশি
  • মাংশপেশীতে ব্যাথা
  • কোস্টকাঠিন্য

 

দ্বিতীয় সপ্তাহঃ

  • জ্বরঅবিরত থাকা
  • পাতলা পায়খানা
  • পেটে ব্যাথা, পেটের আয়তন বেড়ে (প্লীহা যকৃত আকারে বৃদ্ধি পেতে পারে)
  • ফুসকুড়ি মিশে গিয়ে গোলাপের মতন চর্মদাগ ফুটে উঠে  
  • অরুচি, ক্ষুধামন্দা ওজন দ্রুত কমে যায়

 

তৃতীয়/ চতুর্থ সপ্তাহঃ

যদি চিকিৎসাধীন না হয় সেক্ষেত্রে বিভিন্ন অঙ্গের যেমন বৃহদ্রান্ত, ক্ষুদ্রান্ত, প্লীহা, যকৃত, পিত্তথলি এসকল কিছুকে আস্তানা করার মাধ্যমে রক্তসঞ্চালন দ্বারা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পরে অনেক ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রান্তে ছিদ্র হয়ে যেতে পারে ও সেই ক্ষেত্রে পায়খানা ও বমির সাথে রক্তপাত ঘটে থাকে । এর অগ্রসর এমনকি মস্তিস্কের অভ্যন্তরেও  সংক্রামন করতে সক্ষম হয়ে থাকে সেই ক্ষেত্রে  শারীরিক অবনতির সাথে মানুষিক পরিস্থতিও বিপর্যপ্তকর হয়ে উঠে

এর থেকে অবনতির ফলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা বন্ধ হবার ফলে অকাল মৃত্যু বয়ে আনতে পারে

 

কারা এর সংক্রামণ হতে পারে?

সাধারনত শিশুদের জন্য এই রোগের ঝুঁকি বেশী থাকে এছাড়া নিম্নোক্তদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

  • এমন কোন দেশ/ এলাকা যেখানে এই রোগের সংক্রামন আছে
  • কলুষিত পানি খাদ্য সেবন  
  • আক্রান্ত বা বাহক ব্যক্তির  সাথে মেলামেশা
  • এই ব্যাকটেরিয়ার সাথে যুক্ত মাইক্রোবায়োলজিষ্ট বা ল্যাবে কাজকর্মে লিপ্ত যদি পুর্ণ নিরাপত্তা মেনে না চলেন  

 

রোগটিকে নির্ণয়ের জন্য কি কি পরীক্ষা করতে হয়?

লক্ষ্যনসমূহ থাকা মাত্রই একজন ডাক্তারের শরনাপন্ন হবেন যেসকল পরীক্ষা দেয়া হয়

  • ব্লাড কালচারপ্রথম সপ্তাহে ৯০ ভাগ সংবেদনশীল, তৃতীয় সপ্তাহে ৫০ ভাগ সংবেদনশীল
  • স্টুল কালচারদ্বিতীয় সপ্তাহ
  • কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট  সাদা রক্তকনিকা অনেকবেশী মাত্রায় থাকবে
  • উইডাল টেস্টএর মাধ্যমে শরীরের অ্যান্টিবডি এই বাকটেরিয়ার প্রেক্ষিতে কি পরিমানে আছে তা নির্ণয় করা হয়ে থাকে দ্বিতীয় হতে পরবর্তী সপ্তাহে অগ্রসর নির্ণয় করতে উপযোগী  
  • মেরুদন্ডের রস পরীক্ষা ( বোন মেরু কালচার)- কিছু ক্ষেত্রে যখন দিন বা অধিক অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করার পরও পসিটিভ থাকে

টাইফয়েডের কি চিকিৎসা আছে?

চিকিৎসা সমূহ হচ্ছে

অ্যান্টিবায়োটিকভৌগলিক অবস্থান এর উপর ভিত্তি করে এর ধরন নির্ণয় করা হয়ে থাকে আমাদের দেশে যেসকল ব্রান্ড দেয়া হয়

  • মুখে ক্যাপসুল ওফ্লোক্সাসিলিন (৪০০) অথবা সিপ্রফ্লোক্সাসিন (৫০০) দৈনিক দুইবার  ১০ দিন
  • গুরুতর অবস্থায়হাসপাতালে ভর্তি করা হয় শিরার মাধ্যমে সেফট্রাএক্সোন অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়  
  • পাশাপাশি (আই.ভি) শিরার মাধ্যমে স্যালাইন প্রদানের দ্বারা শারীরিক জলয়োজন করা হয়ে থাকে  

 

প্রতিরোধের উপায় কি কি?

সংক্রামনের প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা নিম্নে উল্লেখ করা হলো

  • পরিস্কারপরিচ্ছন্নতা মেনে চলা
  • বিশুদ্ধ পানি পান ব্যবহার করা
  • রাস্তার খোলা খাবার পানীয় পরিহার করে চলা  
  • কাঁচা শাকসব্জি, ফলমুল ভালমতো বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধৌত করে খাওয়া
  • খাবার খুব ভালোভাবে রান্না হবার পর খাওয়া
  • টিকা গ্রহন করা

 

টিকা সমূহ ও তালিকা নিম্নে দেয়া হলো

ভ্যাকসিনের নাম পথ ডোজ কয়দিন পর নিবেন যেসময় নিবেন বয়স বুস্টার
টি২১এ ১টি ক্যাপসুল মুখে ২দিন সপ্তাহ বৎসর বৎসর
ভি.আই সিপিএস ইনজেকশন সপ্তাহ বৎসর বৎসর

 

বাংলাদেশে যেগুলো পাওয়া যায়

নাম কোম্পানী ধরন মূল্য
টাইফারিক্স গ্লাক্সেস্মিথ ক্লাইন

ইনজকেশন

৩৯৪ টাকা
টাইফিমভি সানোফি ৪৪৪.১৭ টাকা
ভ্যাক্সফয়েড ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল লি ৩০০ টাকা

এগুলো আপনি এ্যাপোলো ইবনে সিনা হাসপাতালে টিকাদান সেন্টারে পাবেন  

www.apollodhaka.com/vaccination/

www.ibnsinatrust.com/ibn-hospital/children-vaccine-programএখানে ক্লিক করুন, ফোন নাম্বার ঠিকানা জানার জন্য  

 

0 comments

Leave a Reply