ছেলেদের বিভিন্ন যৌন সমস্যা

ছেলেদের বিভিন্ন যৌন সমস্যা
সাধারণত প্রতি ১০ জনে একজন পুরুষমানুষের সঙ্গমের সময় দ্রুত বীর্যপাত অথবা ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের (erectile dysfunction) মত সমস্যা হয় বলে ধারনা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতেঃ

“কোন পুরুষ যৌনক্রিয়ায় ঠিকভাবে অংশগ্রহণ করতে না পারলে সেটিকে যৌন সমস্যা (Sexual dysfunction) বলা হয়। এর প্রধানতম সমস্যাটি হচ্ছে ঠিকমত ইরেকশন (erection) বা লিঙ্গ সুদৃঢ় না হওয়া। এটি লোকে যা মনে করে তার চেয়ে অনেক বেশি দেখা যায়। ২০-৪০ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে ৭-৮%, এবং ৪০-৫০ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে ১১% এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়। ষাটোর্ধ পুরুষদের ৪০% এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সের পুরুষদের অর্ধেকই এই সমস্যায় ভোগেন।” এটি বিপরিত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট, সমকামী, বাই-সেক্সুয়াল বা ট্র্যান্সজেন্ডার যে কারো হতে পারে।

১) ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা ইম্পোটেন্স (Erectile dysfunction (impotence))
এই সমস্যাটি হলে পুরুষদের লিঙ্গ সুদৃঢ় হয় না বা হলেও তারা সেটি বেশিক্ষন ধরে রাখতে পারে না। বেশিরভাগ পুরুষেরই জীবনে কখনো না কখনো এই সমস্যাটি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে “এটি তখনই সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয় যখন কোন পুরুষ বা তার সঙ্গিনী এটিকে সমস্যা মনে করেন।”

ইরেক্টাইল ডিসফাংশন কেন হয়?
অনেকগুলো কারণে এটি হতে পারে। এই কারণগুলোর কয়েকটি মানসিক এবং কয়েকটি শারীরিক। মানসিক কারণে (যেমনঃ নাইট নার্ভ (night nerves)) কম বয়সী পুরুষদের এই সমস্যাটি হয়। বেশিরভাগ সময়ই এই সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তবে অনেক জটিল মানসিক সমস্যার কারনে এটি হতে পারে যার জন্য সাইকোসেক্সুয়াল থেরাপিস্টের সাহায্য নিতে হতে পারে। কর্মক্ষেত্র, টাকাপয়সা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, পারিবারিক সমস্যা এমনকি ইরেকশন না হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কারনেও সমস্যাটি হতে পারে। ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের শারীরিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

  • হৃদরোগ (heart disease)
  • ডায়বেটিস (diabetes)
  • রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া (raised blood pressure)
  • কলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া (raised cholesterol): এতে ধমনিগুলো সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। যৌনাঙ্গের ধমনিগুলো এমনিতেই খুব সরু (১-২ মি.মি. ব্যাসার্ধের, যেখানে হৃৎপিণ্ডের ধমনিগুলো ১০ মি.মি.) ব্যাসার্ধের) হয়
  • টেসটোস্টেরনের পরিমাণ কমে যাওয়া (low testosterone): পুরুষদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টেসটোস্টেরনের পরিমাণ কমতে থাকে, তবে সব পুরুষেরাই এর দ্বারা প্রভাবিত হয় না। যারা এর কারনে সমস্যায় পড়েন তারা ক্লান্ত, আনফিট এবং যৌনক্রিয়ায় অসমর্থ বোধ করবেন এবং এর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

যে সব ড্রাগ বা ওষুধের কারনে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন হয়ঃ
কয়েক ধরনের ওষুধ (some prescription drugs):

  • এগুলো হচ্ছে রক্তচাপ কমাতেব্যবহৃত ওষুধ (যেমন বেটা ব্লকার) এবং বিষণ্ণতা দূর করতে ব্যবহৃত ঔষধ (antidepressants) ও অ্যান্টিকনভালস্যান্ট/ খিঁচুনি কমানোর ঔষধ।
  • মদ (alcohol)
  • গাঁজা ও কোকেইনের মত ড্রাগ
  • ধূমপান (smoking): নিকোটিনের কারনে ইরেকশন বা লিঙ্গ সুদৃঢ় হওয়ার সময় পুরুষাঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

ইরেক্টাইল ডিসফাংশন হলে কী করতে পারি?
ডাক্তার দেখান। উনি পরীক্ষা করে দেখবেন এবং কারন নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষাও করতে দিতে পারেন। ইরেক্টাইল ডিসফাংশন অন্যান্য সমস্যার নির্দেশকও হতে পারে। এটি উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল এবং ডায়বেটিসের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। এর যে কোনটি ভবিষ্যতে হৃদরোগ হওয়ার পূর্বলক্ষণ হতে পারে। ডাক্তার আপনার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করবেন।

যৌন অক্ষমতার (impotence) চিকিৎসা কী?
প্রথমে যে কোন ধরনের অভ্যেস যা সমস্যাটির কারন হতে পারে, তা বর্জন করুন। আপনি ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং ড্রাগ নেয়া বন্ধ করে দিলে সমস্যাটি একসময় দূর হয়ে যাওয়ার কথা। তবে এতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। রাতারাতি ভাল করে দিতে পারে এমন কোন ওষুধ নেই। আপনাকে যদি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনের বা বিষণ্ণতা দূর করার ওষুধ খেতে দেয়া হয় তাহলে আপানার ডাক্তার হয়ত সেগুলো পরিবর্তন করে দিতে পারবেন। টেসটোস্টেরনের পরিমাণ কমে গেলে হরমোন প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তার চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে এর সাথে সাথে আপনাকে ইরেকশনে সহায়তা করে এমন ওষুধও খেতে হবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন ডায়বেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ হলে সেগুলোর চিকিৎসা করে ইরেকশনের উন্নতি ঘটানো সম্ভব। কোন কোন পুরুষ সাইকোসেক্সুয়াল থেরাপি নিলে উপকার পেতে পারেন। এতে আপনি ও আপনার সঙ্গিনী আপনাদের সম্পর্কের যেকোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।


২) দ্রুত বীর্যপাত (Premature ejaculation)
এই সমস্যাটি হলে পুরুষেরা যৌনক্রিয়ার সময় তারা যখন চান তার আগেই বীর্যপাত ঘটে যায়। এটি উনাকে বা উনার সঙ্গিনীকে হতাশ করলেই কেবল সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

দ্রুত বীর্যপাত কেন ঘটে?
নতুন সঙ্গীর সাথে অতি উত্তেজিত হয়ে পড়ার কারনে অথবা স্থানীয় স্নায়ুতন্ত্র (local nervous system) তীব্র সংবেদনশীলতার কারনে এটি হতে পারে। এটি যৌন সক্ষমতা নিয়ে দুশ্চিন্তা, স্ট্রেস, দুজনের সম্পর্কের অমীমাংসিত কোন বিষয় বা বিষণ্ণতা (depression) থেকেও হতে পারে।

দ্রুত বীর্যপাত ঘটলে কী করতে পারি?
ডাক্তার অথবা সাইকোসেক্সুয়াল থেরাপিস্টের কাছে যান। থেরাপিস্ট আপনাকে বীর্যপাত দেরিতে করার বিভিন্ন টেকনিক শেখাতে পারেন।

এর কী কী ধরনের চিকিৎসা রয়েছে?
অনেক পুরুষ এবং তাদের সঙ্গিনীরা এটি নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নয়, এবং তারা এটি নিয়ে বিশেষ মাথাও ঘামায় না।

  • বীর্যপাত হয়ে যাওয়ার একটু পরে আবার যৌনক্রিয়া আরম্ভ করুন। যত তাড়াতাড়ি আবার দ্বিতীয়বার যৌন ক্রিয়া শুরু করবেন, তত দেরিতে অর্গাজম হবে। বয়স্ক মানুষদের জন্য এটি কঠিন হতে পারে দ্বিতীয়বার যৌনাঙ্গ সুদৃঢ় হতে অনেক সময় লাগতে পারে।
  • দোকানে এক ধরনের ক্রিম পাওয়া যায় যা মাখলে পুরুষাঙ্গ অনুভূতিহীন হয়ে পড়ে। তবে এটির প্রভাবে আপনার সঙ্গিনীও অনুভূতিহীন হয়ে পড়তে পারেন, যা তারা অনেক সময় পছন্দ করেন না। অনেকে কনডম ব্যবহার করেও উপকার পান।
  • আপনার সঙ্গিনীকে আপনার যৌনাঙ্গে বিশেষ ভঙ্গিতে চাপ দিতে বলতে পারেন যাতে বীর্যপাত না ঘটে। তবে এটির করার জন্য আপনার সঙ্গিনীকে খুবই ইচ্ছুক হতে হবে, এবং অনেকেই এটি করতে বিশেষ আগ্রহী হন না।
  • সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিয়াপটেক ইনহিবিটর (selective serotonin reuptake inhibitors (SSRIs)) নামক একধরনের বিষণ্ণতা দূর করার ওষুধ (Antidepressants) বীর্যপাত প্রক্রিয়াটি ধীর গতির করে দিতে পারে, তবে এটি এক বছরের বেশি কাজ করে না। ওষুধ খাওয়া শুরু করার আগে অন্য সবগুলো উপায়ে চেষ্টা করে দেখুন।
  • সাইকোথেরাপির মাধ্যমে দুজনের সম্পর্কের সমস্যাগুলো খুজে বের করতে বা দূর করতে পারেন।