কলেরা

কলেরা

কলেরা একটি অন্ত্রের সংক্রামক রোগ যা দূষিত পানি ও খাবার গ্রহন থেকে হয়। এর প্রধান উপসর্গ হলো- তীব্র বমি ও ডায়রিয়া। সময়মত চিকিৎসা না নিলে এটি মারাত্বক আকার ধারণ করতে পারে। ভিব্রীও কলেরা নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনে কলেরা রোগ হয়, যার উপসর্গ ক্ষীন থেকে তীব্র পর্যন্ত হতে পারে। এর উল্লেখযোগ্য উপসর্গগুলো হলো- বমি, পানির মত পাতলা পায়খানা, পা কামড়ানো ব্যাথা ইত্যাদি। শরীরের পানি দ্রুত হ্রাস পাওয়ার ফলে পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) ও শক দেখা দিতে পারে, দ্রুত চিকিৎসা না নিলে মৃত্যু ঝুঁকি হতে পারে।

 

কলেরা কিভাবে ছড়ায় ও তার উপসর্গ

কলেরা আক্রান্ত ব্যক্তির মল দ্বারা দূষিত হওয়া পানি ও খাবার থেকে কলেরার জীবানু সুস্থ ব্যক্তির কাছে ছড়াতে পারে। সাধারনত পয়ঃপ্রণালীর সুষ্ঠু ব্যবস্থার অভাবে, অপরিশোধিত পানি ও অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধির কারনে কলেরা সংক্রমণ হয়। কলেরা জীবাণু দ্বারা দূষিত পানি সেবনে ও খাবার গ্রহনে একজন ব্যক্তি কলেরায় আক্রান্ত হতে পারে। কলেরা জীবানু বাহিত পানি বা খাবার একজন ব্যক্তি গ্রহনের পর, কলেরার ব্যাকটেরিয়া ঐ ব্যক্তির অন্ত্রে এক ধরনের টক্সিন বা বিষপদার্থ নির্গত করে যা তীব্র ডায়রিয়া তৈরী করে। তবে এট ঠিক নয় যে, কলেরা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলেই কলেরা হবে।

অনেকক্ষেত্রেই কলেরা ক্ষীন উপসর্গ বা উপসর্গহীন থাকতে পারে। কলেরার উপসর্গগুলো হলো-

  • বমিভাব ও তীব্র বমি হওয়াঃ কলেরা সংক্রমনের শুরুর দিকে বমিভাব ও তীব্র বমি হতে পারে।
  • ডায়রিয়াঃ কলেরা জনিত ডায়রিয়া বা পানির মত পাতলা পায়খানা হঠাত শুরু হয়ে এক ঘন্টার মধ্যে মারাত্বক (প্রায় ১ লিটার) পানিশূন্যতা তৈরী করতে পারে।
  • পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনঃ বমি ও পাতলা পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে পানি বের হয়ে পানিশূন্যতা তৈরী করতে পারে। এর জন্য দ্রুত হৃদস্পন্দন, ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, তৃষ্ণা বেড়ে যাওয়া সহ কিছু উপসর্গ হতে পারে।
  • শকঃ পানিশূন্যতা তীব্র আকার ধারণ করে শক এর মত মারাত্বক পরিণতি বয়ে আনতে পারে, যা মৃত্যু ঝুঁকি তৈরী করে অনেকাংশে।

 

কলেরা হলে করনীয়

রোগীর রোগের ইতিহাস জেনে ও উপসর্গ দেখে এনং স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথমে কলেরা কিনা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য কলেরা রোগীকে ডাক্তারের সাথে দ্রুত দেখা করে করনীয় জানতে হবে। ডাক্তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর পায়খানা পরীক্ষার মাধ্যমে পায়খানায় কলেরার জীবাণু আছে কিনা নিশ্চিত হবেন।

কলেরায় শরীর থেকে যে পরিমান পানি ও লবন বের হয়ে যায়, তা ওরস্যালাইন বা শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে পূরন করায় হলো কলেরা চিকিৎসার মূলমন্ত্র। অতঃপর ইনফেকশন অনুযায়ী ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক ও উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

 

কলেরার জটিলতা

কলেরা চোখের নিমিষে মারাত্বক রূপ ধারণ করতে পারে। কলেরায় শরীর থেকে খুব দ্রুত পানি ও লবণ বের হয়ে তীব্র পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে, যা সময়মত চিকিৎসা গ্রহণ না করলে ২-৩ ঘন্টার মধ্যে মৃত্যু বয়ে আনতে পারে। কলেরার উপসর্গ দেখা যাওয়ার পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না নিলে পানিশূন্যতা ও তার পরবর্তী শক অল্প সময়ের মধ্যে মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পানিশূন্যতা ও শক ছাড়া আরো কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি হয়, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

রক্তে সুগার বা গ্লুকোজের পরিমান কমে যাওয়া:  মারাত্বক অসুস্থতা থেকে মানুষ যখন একেবারে খেতে পারে না তখন শরীরের অন্যতম শক্তির উৎস গ্লুকোজ কমে যায়, যা শিশুদের ক্ষেত্রে অজ্ঞান হওয়া, খিঁচুনিসহ জটিলতা বড়দের চেয়ে তাড়াতাড়ি তৈরি করে ও মৃত্যু ঝুঁকি বয়ে আনে।

শরীরে পটাসিয়ামের পরিমান কমে যাওয়া: কলেরা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে পানি ও মিনারেলস বের হয়ে যায় বলে, শরীরে পটাসিয়ামের ঘাটতি দেখা দেয়, যা হার্ট ও স্নায়ুর কার্যক্ষমতায় বাঁধা দিয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

কিডনীর কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া: অধিক পানি ও লবণ শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়ায় কিডনীর পরিস্রাবন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে কিডনীর কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় এবং তা পরবর্তীতে শক হয়ে জটিলতা বহুগুন বাড়িয়ে দেয়।

তাই কলেরার কারন জেনে বিশুদ্ধ পানি সেবন ও জীবানুবিহীন খাবার গ্রহনের উদ্দেশ্যে সুষ্ঠ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পরিশোধিত পানি ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে হবে এবং কলেরার উপসর্গ জেনে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। বিপদচিহ্ন জেনে রেখে সময়মত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে তা প্রতিরোধ করতে হবে।

 

0 comments

Leave a Reply